এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। এ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে গতকালও জ্বালানি পণ্যটির দাম বেড়েছে। সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় প্রধান উত্তোলনকারী দেশগুলো জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ২ ডলার ২৫ সেন্ট বা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৩ ডলার ৬৫ সেন্টে। এ নিয়ে টানা পাঁচদিন বাড়ল জ্বালানি পণ্যটির দর। একই দিনে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২ ডলার ৫৬ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছায় ৭৭ ডলার শূন্য ২২ সেন্টে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। পিভিএমের বিশ্লেষক জন ইভান্স জানান, জ্বালানি তেলের বাজার বর্তমানে বেশ টান টান অবস্থায় রয়েছে। চীন সরকার বড় শোধনাগারগুলোকে ডিজেল ও গ্যাসোলিন রফতানি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে ইউরোপের বাজারেও। সেখানে ডিজেল ফিউচার্সের দাম ২০২২ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জ্বালানি তেলের বাজারের বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে এএনজেডের বিশ্লেষকরা একটি নোট দিয়েছেন। এ নোটে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে হামলার পর সরবরাহ চেইন ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহন নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিপ ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে এ প্রণালিতে অন্তত ৩০০টি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকা পড়েছে। এতে এ গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে তেলবাহী জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে বেশকিছু ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে। কুয়েত উপকূলে একটি ট্যাঙ্কারের কাছে বিস্ফোরণের তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। এছাড়া শ্রীলংকা উপকূলে মার্কিন হামলায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জ্বালানি তেল উত্তোলনে ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ইরাক দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। পর্যাপ্ত মজুদ ব্যবস্থা না থাকা এবং রফতানি পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী দেশ কাতার গ্যাস রফতানিতে ফোর্স মজিউর বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাতারের উৎপাদন স্বাভাবিক হতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এ ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থবিরতা জ্বালানি তেলের বাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সংঘাত যত ছড়াচ্ছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা নিয়ে ঝুঁকি তত বাড়ছে। বিশেষ করে রফতানি পথগুলো অনিরাপদ হয়ে ওঠায় এবং প্রধান উত্তোলনকারী দেশগুলো উত্তোলন কমিয়ে দেয়ায় অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।